সিগারেটের থেকেও বেশি ক্ষতিকারক ডিম,গবেষণায় উঠে এলো ভয়ঙ্কর তথ্য, জেনে নিন এখুনি…

ডিম কমবেশি অনেকেরই পছন্দের খাবার। অনেকের সকালের নাস্তায় বা সারা দিনে কোনো একসময় ডিম খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে এই স্বাস্থ্যকর ডিমেই নাকি ক্ষতি! গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা এমন তথ্য সামনে এনেছেন। জার্নাল অব অ্যাথেরসক্লেরোসিস রিসার্চ নামের একটি গবেষণা সংস্থা এই বিষয়টি সামনে আনে।

0
1622
Egg more dangerous than Cig

হেডলাইনটা পড়ে চমকে উঠবেন প্রায় সবাই। কারণ ডিম সুষম খাদ্যের মদ্যেই পড়ে। রোগী থেকে শিশু, ডিম পাতে রাখতেই হয়। তাহলে এহেন খবর কি ভুয়ো? একদমই নয়।নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় একটি অপরিহার্য খাবার। ডিমে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড মস্তিষ্ককে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁত শক্ত করে। ভিটামিন ডি খাবার থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে সহায়তা করে এবং রক্তের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীরের হাড়ের কাঠামো মজবুত ও শক্ত হয় এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়। এছাড়া শরীরে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, ডিম সেটি পূরণ করে। একটি সেদ্ধ ডিমে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।

অনেক গবেষণা বলছে ডিম শরীরের জন্য সিগারেটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকারক। অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে যেমন হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে, তেমনই ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কথা মাথায় রেখেও ডিমকে বেশি ক্ষতিকারক বলছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন গবেষণা করে তারা এমন সিদ্ধান্তে এসেছেন। তারা বলছেন, প্রতিদিন ডিম খাওয়া সিগারেটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর! তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেশি ডিম খেলে শরীরে কোলেস্টরেলের মাত্রা বেড়ে যায়। যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে।

শুধু তাই নয়, ডিম খাওয়ার ফলে আর্থ্রাইটিসের সম্ভাবনাও দেখা যায় বেশি। তবে অনেকেই বলেন, ডিমের সাদা অংশ উপকারী, আর কুসুম খাওয়া ভালো নয়। তবে বিজ্ঞানীদের মতে ডিমের যে কোনো অংশই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

গবেষকদের মতে, ডিমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন রয়েছে, তাই অতিরিক্ত ডিম খেলে কিডনির সমস্যা হতে পারে। অনেকেই ডিমকে শরীরের শত্রু বলে প্রচার করে এসেছেন। ডিম স্যালমোনেলা জীবাণুর উৎস। ডিম শরীরে কোলেস্টরল বাড়িয়ে দেয়।

অনেকে বলেন ডিমের সাদা অংশ ভালো আর কুসুম খাওয়া ভালো নয়, বিজ্ঞানীরা এই তথ্য উরিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে গোটা ডিম অতিরিক্ত খাওয়াই উচিত না। এমনকি বিজ্ঞানীরা বলছেন কাচা ডিমের তুলনায় ওমলেট, পোচ বা সেদ্ধ খেলে ক্ষতির সম্ভবনা বেড়ে যায়।

এছাড়া ডিম থেকে ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়। কিন্তু এতে থাকা উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন থেকেই আর্থারাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।  ফলে ধূমপানের কারণে মানুষ স্বাস্থ্যগত যে ঝুঁকিতে থাকে, প্রতিদিন বা বেশি বেশি ডিম খেলে তার চেয়েও বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়।  তাই গবেষকদের মতে, কায়িক পরিশ্রম না করে নিয়মিত ডিম খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।সুষম খাদ্য হিসাবে রোগীর শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে ও শিশুর শারীরিক বিকাশ ঘটাতে ডিম অত্যন্ত উপযোগী হলেও উচ্চ রক্তচাপ,হাই কোলেস্টেরল, ফুসফুসের সমস্যা কিংবা কিডনির সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত ডিম খাওয়া বিশেষ করে ডিমের কুসুম কে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here