সাইকেলে কলকাতা থেকে লাদাখ পৌঁছালেন বাংলার পরিমল বাবু,দিলেন অভিনব বার্তা!!

0
1104

ভ্রমন প্রিয় মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের‌ই পছন্দের জায়গা হল লাদাখ। প্রায় সব মানুষই সেখানে যেতে চান আর কমবেশি বেশিরভাগ মানুষই সেখানে যান, তবে তাদের সবার যাওয়ার মাধ্যমটি একই হয় না। কেউ সেখানে গাড়ি ভাড়া করে যান, কেউ বা যান বাইক চালিয়ে, আবার কেউ রিক্সা চালিয়েও যান,তবে সম্প্রতি এক বাঙালি সাইকেলে করে পৌঁছে গিয়েছেন লাদাখে, হ্যাঁ সেই ব্যক্তির নাম পরিমল কাঞ্জি। ভ্রমণ পিপাসু পরিমল বাবু নিজের ভ্রমণ তৃষ্ণা মেটাতে তাই ৫৫ বছর বয়সে সাইকেলকে সঙ্গী করেই পৌঁছে গেলেন লাদাখে আর এইভাবেই সকল ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠলেন তিনি।

 

যে সকল মানুষেরা ঘুরতে বেড়াতে ভালোবাসেন, অথচ আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে উদাহরণস্বরূপ হয়ে উঠেছেন পরিমল বাবু। সাইকেলে ভর দিয়ে পরিমল বাবুর লাদাখ যাত্রা সকলকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, সাধ্য না থাকলেও সাধ পূরণ করাই যায়। ঠিক যেমনভাবে পরিমল বাবু টাকা-পয়সার তোয়াক্কা না করে একটা সাইকেলে গুটিকতক জামাকাপড় নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন চোখে ভরপুর স্বপ্ন এঁকে, তেমনভাবেই যে কেউ সাইকেল কে সঙ্গী করে লাদাখ পাড়ি দিতেই পারেন।
এই বছরের ২১ শে জানুয়ারি লাদাখের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন পরিমল বাবু। পকেট সেভাবে টাকা ছিল না তাই সাইকেলকে সঙ্গী করেছেন তিনি।

Parimal Kanji

তার সাইকেলের চাকার সামনের বোর্ডে বড় বড় করে ইংরেজি হরফে লিখে নিয়েছেন কলকাতা আর তারপর ক্লান্তিহীনভাবে ছুটে চলেছেন একটার পর একটা রাজ্যের সীমানা। সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়েই বর্তমানে তিনি লে লাদাখ হয়ে মানালির পথে অবস্থান করছেন।‌ যাত্রা শুরুর সময় একটি বাজারের থলেতে কিছু জামাকাপড় ও শুকনো খাবার ভরে নিয়েছিলেন তিনি, তারপর সাইকেলে চেপে উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ ,তামিলনাড়ু ,কর্ণাটক, কেরালা ,মহারাষ্ট্র, গোয়া ,রাজস্থান ,গুজরাট, জম্মু শ্রীনগর পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন লাদাখে আবার একইভাবে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, সিকিম, নেপাল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি পেরিয়ে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করবেন তিনি। তার এই ভ্রমণ পর্ব রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে, আর তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিমল বাবু কে নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

 

বিগত সাত মাস ধরে টানা সাইকেল চালাচ্ছেন তিনি, ইতিমধ্যেই অতিক্রম করে ফেলেছেন ১৫০০০ কিমি পথ। প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর কোন ফাঁকা জায়গাতে তাবু ফেলে রাত কাটান তিনি,রাতে স্থানীয় কেউ খাবার দিয়ে গেলে তা খেয়ে নেন।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই আবার ঘুম থেকে উঠে তাবু গুটিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। এই ভাবেই চলছে তার যাত্রা। দীর্ঘ এই ভ্রমণে একমাত্র করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় তাকে দু মাস শ্রীনগরে কাটাতে হয়েছিলো এ ছাড়া আর কোথাও কোন অসুবিধা হয়নি তার। পেশায় প্রেসার কুকার সারাইয়ের মিস্ত্রি পরিমল বাবু ভ্রমণ করতে করতে পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দিচ্ছেন। প্রত্যেকটি রাজ্যের পোশাক- খাদ্য – ঐতিহ্যের সম্পর্কে পরিচিত হ‌ওয়ার জন্য‌ই এই ভ্রমণ তার, যে ভ্রমণের বৃত্ত এখন শুধু সম্পন্ন হ‌ওয়ার অপেক্ষা, নিজের স্বপ্ন পূরণ করে পরিমল বাবুর সুস্থভাবে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ১৯৩৩ সালে সাইকেলে করে স্পীডি স্টারস নামের একটি সংঘের কয়েকজন তরুণ বাঙালি কলকাতা থেকে কাশ্মীর গিয়েছিলেন আর বছর খানেক আগে সত্যেন দাস নামের এক বাঙালি প্রথম রিকশা চালিয়ে লাদাখ গিয়েছিলেন, তারপর চলতি বছরে পরিমল কাঞ্জি সাইকেলে করে কলকাতা থেকে লাদাখ পাড়ি দিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here