কলকাতার বিজ্ঞানী তৈরি করলেন করোনার ভ্যাকসিন,শুরু হচ্ছে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল!

এই ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে ডাক্তার সুমি বলেছেন-"এই টিকায় দু'রকমের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করা হয়েছে, তাই শুধু করোনা নয় যে কোনো সংক্রমণ রোগের বিরুদ্ধেই এটি প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবে।"‌

0
123
Image-Google

ব্রিটেনের ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা “স্পাইবায়োটেক” করোনা টিকার ক্ষেত্রে একটি আশার আলো দেখাতে চলেছে। এই সংস্থাটি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধীনস্থ। এই সংস্থাটি এমন একটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তৈরি করেছে যা যেকোন সংক্রমণ,ক্রনিক রোগ, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকেও পরাস্ত করতে পারবে। এই টিকার আবিষ্কারক কে শুনলে অবাক হয়ে যাবেন! এই টিকার আবিষ্কারক একজন বাঙালী। কলকাতার মেয়ে ডক্টর সুমি বিশ্বাস হলেন এই টিকার আবিষ্কারক। ইনি‌ স্পাই বায়োটিক এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার।

ভারতের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই এই ভ্যাকসিন তৈরির লাইসেন্স পেয়ে গেছে। যা সত্যি অর্থে ভারতীয়দের কাছে এক বড় চমক। অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট ও অ্যাড্রিয়ান হিলের টিমের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে সেরামের।

এবার স্পায় বায়োটেকের সঙ্গেও চুক্তি হয়ে গেছে সেরাম ইনস্টিটিউটের।সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছেন যে, স্পাইবায়োটেকের এই ভ্যাকসিন গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলো অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্ট টিম ও জেন্নার ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্টরা। ল্যাবরেটরিতে সেফটি ট্রায়াল হয়ে যাওয়ার পরেই সেরামের সঙ্গে টিকার উৎপাদন ও ট্রায়াল সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয় স্পাইবায়োটেকের।

 

 

সেরাম ইনস্টিটিউটে কয়েক কোটি টিকা তৈরির মতো পরিকাঠামো আছে, এই সকল বিষয় চিন্তা করে এই সংস্থাটিকেই বরাদ দেওয়া হয়। এমনকি প্রথম দুই পর্বের দায়িত্ব ও পেয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট। স্পাইবায়োটেক জানিয়েছে সেরামের সঙ্গে টিকার ট্রায়াল শুরু করার পরে তার ফলাফল দেখেই ডোজ তৈরি করা যাবে।

 

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সুমি বিশ্বাস ব্যাঙ্গালুরু ইউনিভার্সিটি থেকে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন।এরপর 2005 সালে তিনি ব্রিটেনে যান। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণা সংক্রান্ত বিভাগ জেন্নার ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক হিসেবে সুমি কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে সুমি ও অন্যান্য গবেষকরা মিলে অক্সফোর্ড এর অধীনে নতুন গবেষণা সংস্থা শুরু করেন, এটিই স্পাইবায়োটেক।

এই টিকার সুরক্ষা প্রসঙ্গে সুমি জানান যে-“সারা গিলবার্ট এর টিমের নেতৃত্বেই নতুন রকম ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করা শুরু। এই কাজে সফলতা এসেছে।টিকার প্রেক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পশুদের শরীরে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। এই টিকা মানুষের শরীরেও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।”কারণ হিসেবে সুমি বলেছেন-ল্যাবে পিউরিফাই করার পর স্পাইক প্রোট্রিনগুলোকে হেপাটাইটিস-বি অ্যান্টিজেনের সারফেসে বিশেষ উপায়ে আটকে দেওয়া হয়েছে।

হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন লাইসেন্সপ্রাপ্ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্ট্যাম্প বসানো ভ্যাকসিন, তাই মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়।লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই ভ্যাকসিন এর উপরেই করোনার স্পাইক প্রোটিন ছেড়ে দিয়ে নতুন রকমের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট ডিজাইন করেছেন ডক্টর সুমি। এই ভ্যাকসিন শরীরে ঢুকলে দু’ভাবে কাজ হবে। বিকশিত সক্রিয় করে তুলবে দ্বিতীয়ত শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাবে।”

এই ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে ডাক্তার সুমি বলেছেন-“এই টিকায় দু’রকমের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করা হয়েছে, তাই শুধু করোনা নয় যে কোনো সংক্রমণ রোগের বিরুদ্ধেই এটি প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবে।”‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here