ফেসবুকে করোনার ভুয়ো ঔষধ বিক্রির টোপ! ৫৫ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ব্যাবসায়ী!

ফেসবুকের আলাপে ঐ ভদ্রমহিলা নিজেকেআমেরিকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রোকিওরমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে উল্লেখ করেন।

0
948
Image-Google

কত রকমের প্রতারণা ও জালিয়াতি চক্র যে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে তা আমরা প্রতি মুহূর্তে পড়ি, কিন্তু এত পড়ার পরেও অনেক সময় জানা জিনিসগুলোই ভুল হয়ে যায়। বিভ্রান্তি তৈরি হয় মুহূর্তের মধ্যে। আর সবকিছু কেমন যেন ভুল হয়ে যায়।

করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করার মিথ্যা ফাঁদে পড়ে নিজের 55 লক্ষ টাকা খোয়ালেন একজন ব্যবসায়ী। পাঁশকুড়ার ব্যবসায়ী আশিস বাবুর দাবি, গত ৬ এপ্রিল ঐ ভদ্রমহিলার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথম আলাপ হয় তার। ঐ ভদ্রমহিলা তখন নিজেকে স্কটল্যান্ড এর বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন।
ফেসবুকের আলাপে ঐ ভদ্রমহিলা নিজেকেআমেরিকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রোকিওরমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে উল্লেখ করেন।

এরপর গত 21 শে জুন চ্যাটেই আশিষ বাবুকে ওই মহিলা জানান যে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাটি করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছেন। আর এই গবেষণার জন্য ভারতবর্ষ থেকে কাঁচামাল নেওয়া হচ্ছে। ভারতের থেকে যারা কাঁচামাল দিচ্ছেন তাদেরকে মোটা অংকের কমিশন দেওয়া হচ্ছে। আশিষ বাবুকেও তিনি বোঝান যে এই কাজে যুক্ত হলে আশিস বাবুর ও লাভ হবে। প্রথমে না করলেও পরে আশিষ বাবু মহিলার ফাঁদে পা দেন। এরপর তাকে কাঁচামাল প্রস্তুতকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়।


মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থার ই- মেইল নম্বার থেকে শুরু করে যাবতীয় ফোন নাম্বার দেওয়া হয় আশিষ বাবু কে। তারা আশিষ বাবুকে জানায় যে 6 জুলাই বিদেশ থেকে বিশেষ ফ্লাইটে করে গিয়ে কাঁচামাল নিয়ে যাবে তারা।আশিষ বাবু তাই ফোন পাওয়ার পর বিন্দুমাত্র দেরী না করে কাঁচামাল কেনার জন্য অর্ডার দিয়ে দেন। মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থা জানায় যে মোট দামের 40% টাকা অগ্রিম দিতে হবে। সেই টাকা দেওয়ার পর আরও কিছু টাকা চাওয়া হয়।


এইভাবে আশিস বাবূর কাছ থেকে মোট 54 লাখ 61হাজার টাকা নিয়ে নেয় তারা।দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কাঁচামাল তিনি পাননি। এমনকি তার কমিশনের টাকার নাম করে আর বি আই-এর নামে একটি ভুয়ো মেল তার কাছে আসে। এরপরই আশিষ বাবু বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পা দিয়েছেন।এরপর বারবার সেই সকল নাম্বারগুলোতে চেষ্টা করলেও আর ফোন লাগেনি। পুরো বিষয়টি জানিয়ে আশিষ বাবু এফ আই আর দায়ের করেন পাঁশকুড়া থানায়। এখন এই বিষয়টির তদন্ত চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here